কক্সবাজারে লাল কাঁকড়া সংরক্ষণে কউক চেয়ারম্যানের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ।
আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজারঃ
দিগন্ত ছোঁওয়া অতল সুনীল সাগর। সেই সাগরের সোনালি বেলাভূমির এক ছোট গর্তে থাকত এক লাল টুকটুকে কাঁকড়া। সমুদ্রের সঙ্গে তার ভারী ভাব। সূর্য ওঠার আগে বাসা ছেড়ে সে বের হত সমুদ্রের ঢেউটাকে এক বার ছুঁয়ে আসার জন্য। আবার সন্ধের আগেও এক বার দেখা করে আসত তার ওই বন্ধুটার সঙ্গে। আর জোয়ারের সময় যখন তার ছোট্ট বাসার দরজার সামনে সমুদ্রের ঢেউ এসে দাঁড়াত তখন তার আনন্দ আর দেখে কে!
গল্পের মত মনে হলেও পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে এরকম দৃশ্য এখন উপভোগ করার মত। আর এই দৃশ্যকে সংরক্ষণ করতে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ হাতে নিয়েছে এক অসাধারণ উদ্যোগ।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লাল কাঁকড়া সংরক্ষণে ডায়বেটিকস পয়েন্টে থেকে শুরু করে সমিতি পাড়া পর্যন্ত সমুদ্রের পাড়ের একটি স্থান নির্ধারণ (প্রায় ১ কিলোমিটার) করেছে কউক।
লাল কাঁকড়া সংরক্ষণের এই বিষয়ে জানতে চাইলে কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল ফোরকান আহমদ জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই কক্সবাজার। আর কক্সবাজারের এই সৌন্দর্য রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে লালকাঁকড়া সংরক্ষণে ডায়বেটিকস পয়েন্ট থেকে শুরু করে সমিতি পাড়া পর্যন্ত সাগরের তীরে আমরা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছি। যেখানে লালকাকড়া গুলো তাদের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করে বিনা বাধায় থাকিতে পারবে। এছাড়াও রেজোখাল ব্রিজের পশ্চিম পাশে সর্ববৃহত লাল কাকড়া ও কচ্ছপ প্রজননের জন্যে বেড়া দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় সাগর লতা সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান
এর আগে ৭ এপ্রিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভায় তিনি বলেন, কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের লাল কাকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন, সাগরলতা রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হতে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যার ফলস্বরূপ ইতিমধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কাজ শুরু করেছে কউক।

No comments