কি আছে এই গাছে, ভয় না মিথ্যা ঘটনা?
অবশেষে সরা গাছটি থেকেই গেলো। এসকেভেটর (ভেকু) চালকেরা কেউ গাছটি কাটতে রাজী নয়। কেউ কাটলো না। কারণ ক্ষতি হবে এমন ভয় তাদের মনে। গাছ মালিকের সাফ জবাব, আমি নিজেও কাটতে পারবো না।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নাগরৌহা এলাকায় বিলসূর্য (কচুয়া) নদী পাড়ে সরা গাছটির অবস্থান। গাছটি খুব বেশি বড় কিংবা মোটা নয়। এর সঠিক বয়স কেউ বলতে পারেনি। অনেকেরই কথায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে যেমনটি দেখেছেন এখনো তেমন অবস্থাতেই দেখছেন। আবার কারো কারো হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ বছরের কম হবে না গাছটির বয়স।
বিলসূর্য নদী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে পূনঃখননের কাজ চলছে। প্রথম দফায় নাগরৌহা এলাকায় নদী পাড়ের বড় ছোট সব গাছগাছালী কেটে ফেলা হয়েছো। অনেক গাছ মালিক কাটতে না চাইলেও এসকেভেটর চালকেরা সেসব গাছ কেটে দিয়েছে। অথচ ফাকা জায়গায় নদী পাড়ের সরা গাছটি কোন চালকই কাটেনি। তাদের নিজেদের নাকি জানা ফাকা জায়গায় সরা গাছে ভুঁত-পেত বসবাস করে। আর গ্রামবাসীদের অনেকেই সেসময় গাছটি ঘিরে ভয়ের নানা কাহিনী সেখানে বলাবলি করে। এ থেকেই ক্ষতির ভয়ে সেসময়ের চালকেরা গাছটি না কেটে রেখে যায়।
এখন দ্বিতীয় দফায় পূন:খননের কাজ চলছে। এখনো কোন এসকেভেটর চালক গাছটি কাটবে না। তাই থেকেই গেল সরা গাছটি। আজ শনিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে গাছটি ঘিরে মাটি ফেলা হয়েছে। আরো ফেলা হবে।
এ প্রকল্পের সাইড সুপারভাইজার মোঃ মনা মিয়া জানান, তিনি গাছটি কাটার বিষয়ে কাউকে কোন কিছু বলতে পারবেন না। এখন গাছ ঘিরে মাটি ফেলা হচ্ছে।
এসকেভেটর চালকদের একজন মোঃ সন্টু মিয়া বলেন, এখানে কাজ না করলেও তিনি এগাছ কাটতে পারবেন না। তার নিজের মাঝে ভয় আছে।
গাছ মালিক মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, আমি নিজে কাটতে পারবো না। তাই গাছটি কাটিনি। এসকেভেটর চালকেরা পারলে কাটবে।
উল্লাপাড়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ শামীম হাসান বলেন, এটি পুরোপুরি কুসংস্কার। সরা গাছ, শিমুল গাছে ভুঁত-পেত থাকে এমন ধারণা ও কুসংস্কার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মাঝে চলে আসছে। আসলে ভুঁত-পেত বলতে কিছুই নেই। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় একসময় এসব কুসংস্কার আর থাকবে না।

No comments