কাবা শরীফের উপর শিব মন্দিরের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস, যুবক আটক। দেশের ডাক
অঞ্জন কুমার বিশ্বাস নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে ঐ ষ্ট্যাটাস দেয়া হয় । অঞ্জন কুমার বিশ্বাস গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের বৌলতলী গ্রামের নির্মল বিশ্বাসের ছেলে । সে বৌলতলী বাজারে কম্পিউটার ও ফটোকপির ব্যবসা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তার ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা কয়েক জন জানায়, কাবা শরিফের ছবির পাশে শিবের মূর্তি ও শিব লিঙ্গের ছবি দিয়ে অঞ্জন তার ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয় এবং সেখানে লেখা ছিল, “মক্কা মদিনা প্রথমে ছিলো শিবের মন্দির প্রমান মিলল”। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় ।
পরে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ৩ টায় অঞ্জন তার ষ্ট্যাটাস উঠিয়ে নিয়ে নতুন আরো একটি ষ্ট্যটাস দেয় “ তাতে লেখা ছিল আমার শেয়ার করা পোষ্টটি যাচাই না করে শেয়ার করার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আমার শেয়ার করা পোষ্টটি সম্পূর্ন ভিত্তিহীন । আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য আমি অনুতপ্ত। আপনারা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেন।”
প্রতক্ষ্যদর্শী আরিফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানার পর দুপুরের বৌলতলী বাজারে ২শ’ থেকে ৩শ’ লোক জড়ো হয় এবং অঞ্জনকে খোজাঁখুজি করে। আমরা কয়েক জন তাদের শান্ত করি। এরপর প্রশাসনকে জানালে পুলিশ বিকেলে অঞ্জনকে নিয়ে যায় ।
ফেসবুক ব্যবহারকারি প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন , আজ এলাকার জনগন যেভাবে জড়ো হয়েছিলো তাতে বড় ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারতো। অঞ্জন কাবা শরিফের উপরে যে ছবি দিয়েছে তা ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীও অনুভূতিতে আঘাত করেছে । আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।
বৌলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুকান্ত বিশ্বাস বলেন , অঞ্জন ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হেনে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলো তা অত্যান্ত দুঃখজনক । আমি সকালে তাকে বলেছিলাম তুমি কেনো এই ধরনের ষ্ট্যাটাস দিয়েছো। জনগন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে । অঞ্জন এখন পুলিশ হেফজতে আছে ।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল ) মোঃ সানোয়ার হোসেন বলেন, অঞ্জন আমাদের হেফজতে আছে । আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এলাকা এখন শান্ত আছে ।

No comments