• শিরোনাম

    করোনাভাইরাস: মহামারী পরিণত হচ্ছে মানবাধিকার সঙ্কটে। দেশের ডাক




    করোনাভাইরাস মহামারী এখন পরিণত হচ্ছে বিরাট এক মানবাধিকার সঙ্কটে— এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সাথে তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা যাতে কোনো স্বৈরাচারী রাষ্ট্র অজুহাত হিসেবে না নেয়।

    লকডাউনের মধ্যে বাধাহীন তথ্য প্রবাহ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্কট মোকাবেলায় কিছু দেশের গ্রহণ করা পদক্ষেপ যথাযথ নয় বলে অভিহিত করছে জাতিসংঘ। এমন দেশগুলোর মধ্যে আছে চীন, ভারত, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    গুতেরেস এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন এবং করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি ঘরোয়া সহিংসতা বাড়িয় দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। অবশ্য করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোও সামগ্রিকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, “কিছু কিছু এলাকায় ভাইরাসের কারণে খুব বাজে প্রভাব পড়ছে। যেমন কোনো কোনো এলকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঘৃণার শিকার হচ্ছে, আবার কোথাও অরক্ষিত জনগোষ্ঠিকে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কোথাও আবার ভারী অস্ত্রধারী বাহিনী মোতায়েনের কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    কোভিড-১৯ নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জাতিসংঘ করোনাভাইরাসকে ‘বিদেশি রোগ’ বলে অভিহিত করার সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘ বলছে, এই শব্দের ব্যবহার বিভিন্ন দেশে বিদেশিদের উপর স্থানীয়দের ক্ষোভ, অহেতুক ভয়, বর্ণবাদ এবং এমনকি অন্যায় আক্রমণের পটভূমী তৈরি করতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার কিছুটা সীমিত করা হয়েছে; জাতিসংঘ এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে। তবে অনেক বেশি টেস্ট করা, আক্রান্ত অঞ্চলের লোকজনকে কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষের চলাফেরার সীমাবদ্ধতাকে শিথিল করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান।

    করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ১৩১টি দেশ তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কেবলমাত্র ৩০টি দেশে এই অবস্থা কিছুটা শিথিল, তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এই সুবিধা চলমান আছে।

    জাতিসংঘ তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে আরো বলেছে, ফেইক নিউজের অজুহাতে অনেক দেশে সাংবাদিক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনলাইন নজরদারির ক্ষেত্রে আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভুয়া তথ্য বা গুজব ঠেকাতে গ্রহণ করা অতিরিক্ত পদক্ষেপসমূহ অনেক ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমন কি এর মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত সেন্সরশিপ শুরু হয়ে যাচ্ছে।”

    এই পরিস্থিতিতে সেরা সমাধান হিসেবে জাতিসংঘ সরকারকে স্বচ্ছতার নীতি গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

    No comments