• শিরোনাম

    গোলাম রাব্বানীকে ক্ষমা করুন প্রিয় নেত্রী, একজন ছাত্রলীগ কর্মীর আকুতি।





    গোলাম রাব্বানীকে ক্ষমা করুন প্রিয় নেত্রী এই আকুতি নিয়ে কক্সসবাজার সদর ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী তামজিদ পাশা তার ফেইজবুেক স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল।

    গোলাম রাব্বানী এক হার না মানা যোদ্ধার নাম, গোলাম রাব্বানী এক কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েও আবার ঘুরে দাড়ানোর নাম, গোলাম রাব্বানী এক শো অপ করে ভাল কাজের উৎসাহ দেওয়া এক ব্রান্ডের নাম, গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এক ইতিহাসের নাম।

    অনেকে আমাকে হয়ত বলতে পারে হঠাৎ এই সময়ে এই পাগল আসলো কোথা থেকে, আমি তাদের বলতে চাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেই ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত যেভাবে ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে সেই সংগঠনের নাম।

    বঙ্গবন্ধু তাই বলেছিলেন ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলার ইতিহাস। সেই ছাত্রলীগ স্বাধীনতা পরবর্তী যখন পথ ভ্রষ্ট হয়, যখন অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ভূল পথে পরিচালিত হচ্ছিল তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।

    যেই সংগঠন ছাত্রদের অধিকার আদায়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেন, যেই সংগঠন গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতেন সেই সংগঠনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তিনি দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিয়ে ছাত্রলীগকে নিজের হাতে নিয়ে নিলেন। দায়িত্ব দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র পরিশ্রমী ছাত্রনেতা শোভন- রাব্বানীর উপর।

    তাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে দিনরাত কাজ করছিল। ছাত্রলীগ গরীব অসহায়দের পাশে দাড়াচ্ছে, কর্মীদের বিপদে ছুটে যাচ্ছে , কৃষকদের পাশে দাড়াচ্ছে। সর্বোপরি ছাত্রলীগে মানুষের বিপদে এগিয়ে আসাটা যেন প্রতিযোগিতার মত হয়ে গেছে। সারা বাংলাদেশে রাব্বানী নামটা যেন ছাত্রলীগের কর্মীদের আশা ভরসার প্রতীক হয়ে গেল।

    এবার নেমে এলা বৃহৎ ঝড়, শুরু হল ষড়যন্ত্র শোভন- রাব্বানীকে টেনে নিচে নামার। বঙ্গবন্ধুকে যেমন আওয়ামীলীগের বিশ্বাসঘাতকরা ধ্বংস করতে শুরু করল,ছাত্রলীগকে বিভক্ত করা শুরু করেছিল তেমনি শেখ হাসিনার ছাত্রলীগকেও ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র শুরু করল ।

    তাদের কাজ হচ্ছে শোভন- রাব্বানীকে নেত্রীর কাছে খারাপ বানানো। জানি প্রত্যেক মানুষের ভাল মন্দ দুইটা দিক থাকে।অতিতের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি/ সম্পাদকও অনেক ভাল ও খারাপ কাজ করেছে। যেহেতু সেটা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত তাই তার জন্য তাদের শাস্তি পেতে হয়নি। হয়ত টাকা পয়সা পেলে সিন্ডিকেট খুশি হয়ে যেত, তাই তাদের অপকর্ম নেত্রী পর্যন্ত যেত। নেত্রীও ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অত চিন্তা করতেননা।কিন্তু এটাতো আপার কমিটি এখন এটাকে কেমন দমন করা যায় ষড়যন্ত্রবাজরা উঠে পড়ে লেগে গেল। আওয়ামী রাজনীতিতে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে কেউ যখন বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাই তখন তাকে মাইনাস ফরমুলায় ফেলে দেওয়া হয়। রাব্বানী ভাই ও ধুয়া তুলশি পাতা না! তারও কিছু খারাপ দিক থাকতে পারে। চাদেরও কলংক আছে ।

    গোলাম রাব্বানী ভাইতো মানুষ ফেরেস্তা না! তাই তারও দোষত্রুটি থাকতে পারে। ছাত্রলীগে একটা খারাপ ট্রেইন সৃষ্টি করেছে সিন্ডিকেট। টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন। যেটা দিনে দিনে পরিবর্তন আনা সম্ভব না।তাই হয়ত তাদের মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে।অথচ তারা ভাল করে কয়টা কমিটিও করতে পারলনা।

    ছাত্রলীগ ছাত্ররা করে, তাদের সংগঠন চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। যারা সংগঠনের সভাপতি/ সম্পাদক হয়েছেন তারা বুঝবেন একটা সংগঠন চালানো কত কষ্টের। অথচ যারা আওয়ামীলীগের বড় পদবী ব্যবহার করে দলকে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক তারা শুধু মিটিং মিছিলে ছাত্রলীগকে সীমাবদ্ধ রাখে। ছাত্রলীগকে কখনো আর্থিকভাবে সংগঠন চালাতে সহযোগিতা করেনা। ছাত্রলীগতো ছাত্র শিবিরের মত না! যেই সংগঠনে সভাপতি/ সম্পাদকের জন্য মাসিক টাকা আসে, চলাফেরা করার জন্য বাইক দেই। কর্মীদের বিপদে দল থেকে সহযোগিতা আসে। অথচ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তো তাদের মত না।

    কষ্ট করে সংগঠন চালাতে হয়। তাইতো তারা মাঝে মাঝে খ
    পথ ভ্রষ্ট হতে বাধ্য হয়। কিন্তু খারাপের চেয়ে ভালোর পাল্লাটা যদি ভারী হয় তাকে এভাবে দোষী বলা যায়না।

     রাব্বানী ভাই ছাত্রলীগকে শিখিয়েন কিভাবে বিপদে মানুষের পাশে থাকতে হয়। কিভাবে ছাত্রলীগকে ছাত্রযুব সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় সংগঠন করতে হয় । তাইতো তার কর্মই তার কাল হলো। হারিয়ে দিলো তাকে, হারিয়ে দিলো আপার ছাত্রলীগকে। ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করেছে তারা সফল। 

    কিন্তু এইটা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে ছাত্রলীগকে সম্পূর্ণ হারিয়ে দিতে দেননি। তাইতো আপা ছাত্রলীগে ইতিহাস সৃষ্টি করে সভাপতি /সম্পাদক কে একসাথে অব্যাহতি দিয়ে অন্য দুইজনকে পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। করলেন সহ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে সভাপতি ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে করলেন সাধারণ সম্পাদক । 

    আজ তারাও সেই রাব্বানীর সৃষ্টি করা পথেই হাটছেন। ছাত্রলীগ আজ যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু হারিয়েছে এক মহা মূল্যবান সম্পদকে। যেখানে ছাত্রলীগ প্রথম বারের মত ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী করল অথচ সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত এই শোভন- রাব্বানী দাওয়াতও পেলনা। কিন্তু সে নাছুর বান্দা। মচকাবো কিন্তুু ভাংবেনা। বুকের মাঝে হাজারও ষন্ত্রণা নিয়ে লেগে থাকলেন সঠিক পথে।

     পদ হারিয়েছেন কিন্তু পথ হারাননি। আজ বিশ্ব খুবই আহত। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে পৃথিবী আজ স্তব্ধ। একটা গুলি, বোমা,গ্র্যানেট ছাড়া আজ লাশের সারিতে পরিনত হয়েছে। সবাই আজ ঘর বন্ধি। 

    আল্লাহ এক অদৃশ্য রোগ সৃষ্টি করলেন সারা পৃথিবী এক হয়ে তার টিকা আবিষ্কার করতে পারছেনা। মানুষ আজ না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ছাত্রলীগ আজ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। যেখানে ছেলে তার বাবার লাশ দাফন করতে ভয় পাই সেখানে ছাত্রলীগ তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে লাশ দাফন করছে। অসহায় ঘরবন্দী মানুষকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। তার মাঝে একজন গোলাম রাব্বানী যিনি এত যন্ত্রণা পাওয়ার পরও মানুষের উপকার করা ভূলে যাননি। ছুটে চলছেন অবিরাম। কখনো মাস্ক দিচ্ছে , কখনো জীবাণু নাশক ছিটাচ্ছে, কখনো খাবার দিচ্ছে। যেখানে ঢাকায় সবচাইতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানেই তিনি প্রতিদিন ঝুকি মাথায় নিয়ে মানুষের বিপদে ছুটে চলছেন। তুলে দিচ্ছেন অসহায়দের মুখে খাবার। কেউ কেউ ফোনে সহযোগিতা খুজলে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করছেন। 

    করছেন আর করছেন। একা যুদ্ধে নেমেছেন। মৃত্যু যেন তাকে ছুবে না তার কোন চিন্তা নেই। যেখানে ঢাকায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি,জামায়াতের, ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক রয়েছে তার আজ ঘরের ভিতরে। অথচ ঐ ছেলেটা যে দলের কঠিন সময়ে শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে একা পুলিশের বন্দুকের সামনে দাড়াতে পারে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক না হয়েও সারা বাংলাদেশের অনেক ছাত্রলীগের কর্মীর বিপদে ছুটে আসতো সেই আজ জীবনটা তুচ্ছ করে মানবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটে চলছেন অবিরাম দুঃখী মানুষের পাশে। মানুষ মাত্রই ভূল। 

    তাই হয়ত ইচ্ছা অনিচ্ছায় রাব্বানী ভাইয়ের ও ভূল হয়েছে। আমি কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন নগণ্য কর্মী হয়ে মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন ছেলেরা অন্যায় করলেও মা শাসন করতে পারে আবার চাইলে ক্ষমা করে বুকে টেনেও নিতে পারে। আপনি বাংলাদেশের হাজারো ছাত্রলীগের কর্মীদের আইডল সবার প্রিয় গোলাম রাব্বানী ভাইকে ক্ষমা করে দিয়ে আবার রাজনীতি করার সুযোগ দিন।

     আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।

    জয় বাংলা

    জয় বঙ্গবন্ধু

    No comments